জাল হাদিস মানে কি ?

Please check these topics first.

    Administrator Member Since Oct 2016
    Flag(0)
    Oct 16, 2012 11:52 PM 1 Answers
    Subscribe

    উদাহরণ চাই

    1 Subscribers
    Submit Answer
    Please login to submit answer.

    1 Answers
    Sort By:
    Best Answer
    0
    AnswersBD Administrator Mar 01, 2013 12:14 PM
    Flag(0)

    জাল হাদীস/ জাল হাদিস
    ‘হাদীসের’ আভিধানিক অর্থ, ‘কথা’; কিন্তু পরিভাষায় হাদীস বলতে রাসূল সা. এর বাণী, তাঁর শিক্ষা ও হেদায়াত এবং তাঁর কর্ম ও অবস্থান সমূহকে বুঝানো হয়। তাই এ কথা সুস্পষ্ট যে, জালহাদীস, ভিত্তিহীন হাদীস মূলত হাদীসই নয়। কেননা, যদিও তা রাসূল সা. এর নামে কেউ মিথ্যারোপ করেছে বা যাচাই ও তদন্ত ছাড়াই বর্ণনা করেছে, কিন্তু রাসূল সা. থেকে তা প্রমাণিত নয়, তাঁর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও আমরা কথা প্রসঙ্গে বলে থাকি, ‘জালহাদীস’, ‘ভিত্তিহীন হাদীস’, যেমন বলা হয়ে থাকে ‘মিথ্যানবী’ আর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে সে নবীই নয়। তেমনি ভাবে মওযূ হাদীস, জালহাদীস এবং ভিত্তিহীন হাদীস এর অর্থ, এটি হাদীসে নববীই (নবীর হাদীসই) নয়।

    কথা সঠিক হলে হাদীস হওয়া জরুরী নয়।


    মওযূ তথা জাল হাদীস দুই ভাগে বিভক্ত।
    (১) যার অর্থ ও বিষয় বস্তুই বাতিল এগুলো হাদীসে নববী হওয়ার কল্পনাই করা যায় না। এ প্রকার মওযূগুলোকে চিহ্নিত করলে তাতে কারো কোনো আপত্তি থাকে না। কেননা প্রত্যেকে জানে যে, বাতিল কথা কোনো ক্রমেই রাসূল সা. এর বাণী হতে পারে না।
    (২)কিছু কিছু ক্ষেত্রে জালকারীরা হাদীস জাল করতে গিয়ে কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ তারা একেবারেই বাতিল কথাকে রাসূল সা. এর নামে বর্ণনা করে ১ম বারেই নিজকে অপমানিতকরার চিন্তা করেনি। বরং সুন্দর সুন্দর উপদেশ ও হেকমতপূর্ণ বাণী অথবা বাহ্যত সুন্দর মনে হয় এমন বাণী নিজ থেকে বানিয়ে বা কোথাও থেকে নকল করে রাসুলের বাণী হিসেবে প্রচার করেছে। এ প্রকার জাল বর্ণনা সাধারণত বে-দ্বীন ওয়ায়েজ, বে-দ্বীন সূফী-দরবেশ এবং বে-দ্বীন কিস্‌সা-কাহিনীকাররা তৈরী করেছে।

    মিথ্যা সর্বাবস্থায় মিথ্যা এবং মিথ্যুক সর্বাবস্থায় মিথ্যুক। সে যে মুখোশেই সামনে আসুক না কেনো- গোপন থাকতে পারবে না। বিশেষ করে দ্বীনের ব্যাপারে। তদুপরি হাদীসে রাসূল সা. এর ব্যাপারে মিথ্যুকদেরকে আল্লাহ্‌ তাআলা কখনোই ছাড় দেন না। তাদের মিথ্যা প্রকাশ করেই দেন। কেননা আল্লাহ্‌ তাআলা নিজেই দ্বীনের হেফাযতের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে রেওয়ায়াত জালকারীরাও  হাদীস বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিতে পারেনি। তাদের বানানো হাদীস জালহাদীসের কিতাবে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে এবং জালকারীদের নাম মিথ্যাবাদীদের তালিকায় এসে গেছে।
    এই দ্বিতীয় প্রকার জাল রেওয়ায়াত সম্পর্কে যদি লোকদেরকে সতর্ক করা হয় তখন কতিপয় কম-ইল্‌ম ও বে-ইল্‌ম লোকদের আপত্তি হয় যে, এ কথাটি তো সত্য। এ কথা তো ভালো মনে হয়। এতো কোন বাতিল, মন্দ বা ভুল কথা নয়; একে তুমি জাল বলছো কেনো? যারা এ ধরণের কথা বলে আসলে মিথ্যার অর্থই তাদের জানা নেই। কেননা জগতবাসী জানে যে, অবাস্তব কথাকেই মিথ্যা বলা হয়। যেমন কারো ব্যাপারে এমন কথা বলেছে বলে দাবি করা হলো যা সে বলেনি। একে তার প্রতি মিথ্যারোপ বলা হয়; সে কথা মন্দ হোক আর ভালোই হোক।
    সুতরাং যে বাণী আল্লাহর রাসূল ইরশাদ করেননি, তা যদিও ভালো হয় বা কারো ভালো মনে হয়; তথাপি কিছুতেই একে রাসুলের বাণী বলা জায়েয হবে না। কারণ, সে ক্ষেত্রে এটা হবে রাসূলের উপর মিথ্যারোপ যা পরোক্ষভাবে আল্লাহ্‌র তাআলার উপর মিথ্যারোপের সমার্থক। বিষয়টি আরো গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, এই দ্বিতীয় প্রকার জালরেওয়ায়াত সমূহ আরো ক্ষতিকর। কেননা ১ম প্রকারের রেওয়ায়াতগুলো জাল হওয়ার বিষয়টি অতি স্পষ্ট হওয়ার কারণে মানুষ ধোঁকায় কম পড়ে। পক্ষান্তরে এ দ্বিতীয় প্রকার বর্ণনা সমূহের বিষয়বস্তু বাহ্যত সুন্দর হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই প্রতারিত হয় এবং ধোঁকা খায়। এর চেয়ে বড় কথা হলো, এ ধরণের ভালো ভালো কথা যারা হাদীসের নামে চালিয়ে দিচ্ছে, তারা যেন বলতে চায়, “এ কথাগুলো মানুষের হেদায়াতের জন্য আল্লাহর রাসূলের ইরশাদ করা উচিত ছিলো। তিনি যখন ইরশাদ করেননি, তখন আমিই তাঁর নামে এগুলো বলে দিচ্ছি।” (নাউযুবিল্লাহ্‌) অথবা পরোক্ষভাবে সে যেন বলতে চায়,”রাসূলের মাধ্যমে এ কথাটি বলানো উচিত ছিলো, তিনি যখন তা করেননি, তখন আমিই আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে রাসূলের নামে তা বলে দিচ্ছি।”(নাউযুবিল্লাহ্‌)
    যাহোক, এই আখেরীদ্বীন ও শরী’আত (ইসলাম) এবং এর উৎস সমূহ সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণ। এতে কারো পক্ষ থেকে কোনো ধরণের সংযোজনের প্রয়োজন নেই। জালিয়াতি ও মিথ্যার তো কোনো প্রশ্নই আসে না।

    আমাদের সমাজে প্রচলিত কিছু জাল হাদীস,

    1. স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ
    2. বিদ্বানের কলমের কালি শহিদের রক্তের চেয়েও পবিত্র
    3. মেরাজে জিবরাঈল আ. হুযুর সা. এর সঙ্গ ত্যাগ করেন এই বলে, আমি আর এক কদম অথবা আর এক চুল পরিমাণ অগ্রসর হলে আমার দানা সমূহ জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে
    4. হুযুর সা. এর জুতা নিয়ে আরশ গমন
    5. আপনাকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি করতাম না
    6. একবার হুযুর সা. এর সাথে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা রাতের অন্ধকারে তাঁর বিছানায় ছিলেন। আম্মজি আয়েশা রাযি. এর হাত থেকে একটি সুঁই পড়ে গেলে খোঁজাখুঁজির পরোও তা পাচ্ছিলেন না। এমন সময় রাসূল সা. হেসে উঠলে তাঁর দাঁতের নূরের ঝলকে পুরো কামরা আলোকিত হয়ে যায়। ফলে হযরত আয়েশা রা. সে নূরে তাঁর সুঁইটির সন্ধান পান
    7. দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ করো
    8. আলিমের মজলিস হাজার রাকাআত নফল থেকেও উত্তম
    9. এই উম্মতের আলিম বনী ইসরাইলের নবী তুল্য
    10. আযান ও ইকামতে রাসূল সা. এর নাম শোনে আঙ্গুলে চুমু খাওয়া
    11. লবণের মাঝে ৭০ রোগের ওষুধ
    12. আহারের শুরু ও শেষ লবণ দিয়ে করো। কেননা লবণ ৭০টি রোগের ওষুধ। …
    13. জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে চীন দেশে যাও

    একটি জরুরী সতর্কীকরণ,


    জাল ও ভিত্তিহীন রেওয়ায়াতকে বিভিন্ন বাহানায় হাদীসে রাসূল  হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা করা যেরূপ ঘৃণিত কাজ, তদ্রূপ নানা বাহানা ও ছল-চাতুরী করে আকল ও বিবেক পরিপন্থীর অভিযোগ এনে, সনদের সামান্য সন্দেহ ও সংশয়ের ভিত্তিতে কিংবা আয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন এবং বহু হাদীস বিশেষজ্ঞের মতের বিপরীতে শুধু দু’একজনের উক্তির কারণে উম্মতের মাঝে ধারাবাহিকভাবে চলে আসা সুপ্রমাণিত আমলসিদ্ধ হাদীস ও আছার প্রত্যাখ্যান করা এবং সেগুলোকে যয়ীফ, মুঙ্কার, বাতিল বা ভিত্তিহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করাও একটি ভয়ানক ফিতনা। এ ফিতনা প্রথমোক্ত ফিতনা থেকে কোনো অংশে কম নয়।, যা থেকে উম্মতকে রক্ষার জন্য নিম্নোক্ত কিতাব প্রণয়ন করা হয়েছে।
    আফসোস! দ্বিতীয়োক্ত ফিতনাতেও কোন কোন শ্রেণীর লোক ফেঁসে গেছেন। আল্লাহ্‌ তাআলা তাদেরকে এবং পুরো উম্মতকে সকল ফিতনা থেকে হিফাজত করুন। আমীন।

    বিস্তারিতঃ


    প্রচলিত জাল হাদীস
    মাওলানা মুতীউর রহমান
    তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনা
    মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক
    প্রকাশক
    মারকাযুদ দাওয়াহ্‌ আলইসলামিয়া ঢাকা
    (গবেষণামূলক উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াহ্‌ প্রতিষ্ঠান)
    মূল্যঃ ১৯৫.০০৳

    Sign in to Reply
    Replying as Submit