রমজানের ইবাদত সম্পর্কের জানতে চাই

Please check these topics first.

    Administrator Member Since Oct 2016
    Flag(0)
    Jul 22, 2012 05:21 AM 1 Answers
    Subscribe

    কি ভাবে বেশি নেকি অর্জন করা যায়…

    1 Subscribers
    Submit Answer
    Please login to submit answer.

    1 Answers
    Sort By:
    Best Answer
    0
    AnswersBD Administrator Jul 22, 2012 07:21 AM
    Flag(0)

    রমজান ও ইবাদত

    মাওলানা আবদুর রহমান হাফেজ্জী\r\nমুহতামিম, জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম, ময়মন
    ইবাদতের বসন্তকাল রমজান। সওয়াবের ভরমৌসুম রমজান। আল্লাহর রহমত বাহানা অন্বেষণ করে। মহান রাব্বুল আলামিনের রহমতে মুসলমানদের সিক্ত করতেই এই মহা আয়োজন। এ মাসে রহমতের বারিধারা বর্ষিত হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকেই ইবাদতের সব আয়োজন ও পরিবেশ তৈরি করা হয়। কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যে রূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার’ (বাকারা-১৮৩)। রমজানের রোজা ফরজ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে মুত্তাকি হওয়া। মানুষ যেন ইবাদত করে মুত্তাকি হতে পারে, ইবাদতে অনুপ্রাণিত হয়, অন্যায় থেকে বিরত থাকে সে জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনটি কাজ করা হয়—
    ১. মানুষের মনে কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারী শয়তানকে রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই শৃঙ্খলাবদ্ধ করা।
    ২. গোনাহের শক্তি-সামর্থ্য হ্রাস করার জন্য পানাহারের বিধান দান।
    ৩. মানুষকে ইবাদতে আগ্রহী করতে রমজানে সব ইবাদতের সওয়াব ন্যূনতম সত্তর গুণ থেকে শুরু করে সীমাহীন বৃদ্ধি।
    এ মাসের নফল ফরজের সমান। একটি ফরজ সত্তর ফরজের সমান। যে কোনো সত্ কাজের বিনিময় ন্যূনতম সত্তর গুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। এ মাসের এক রাত হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। এ সবই বান্দাকে ইবাদতে অনুপ্রাণিত করার বিশেষ ব্যবস্থা। রমজান ইবাদতের বিশেষ সিজন। এ মাসের ইবাদতের মাধ্যমে সারা বছর ইবাদতের শক্তি সঞ্চয় করবে। রোজা রাখার পাশাপাশি পুরো সময়টাই যেন ইবাদতে কাটে সেদিকে লক্ষ্য রাখবে। সারাদিন রোজা রেখে রাতে কিয়ামুল লাইলে সচেষ্ট থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে তার আগের ও পরের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়, আর যে ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানে রাত জাগরণ করে তার আগের ও পরের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
    হাদিসে রমজানে বিশেষ করে চারটি আমলের কথা এসেছে।
    ১. বেশি বেশি ইস্তেগফার করা
    ২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া
    ৩. জান্নাত প্রার্থনা করা
    ৪. কালিমায়ে তৈয়্যেবা বেশি বেশি পড়া।
    এছাড়া বাকি সময়টা জিকিরে কাটাবে। জিকিরের জন্য কোনো আয়োজন পরিবেশ ও ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। কাজ করতে করতে জিকির করতে থাকবে। ইরশাদ হয়েছে ‘কোরআনে কারিমের তিলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদত।’ অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে ‘দুটি কালিমা এমন যা রহমানের অতি প্রিয়, উচ্চারণ সহজ, মিজানের পাল্লায় অতি ভারি। কালিমা দুটি হচ্ছে—সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’ (আল হাদিস)। যে কোনো জিকিরই করতে পারে। তবে কোরআনে কারিমের সঙ্গে রমজানের বিশেষ যোগসাজশ রয়েছে। রমজানে হজরত জিবরাইল (আ.) এসে রাসুলের (সা.) সঙ্গে কোরআনে কারিমের দাওর করতেন।
    রমজানে ইবাদত করার পাশাপাশি ইবাদত বিনষ্টকারী সব অন্যায় থেকে বেঁচে থাকতে হবে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা ও গিবত থেকে বাঁচে না, আল্লাহর কাছে তার রোজার কোনো প্রয়োজন নেই। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘রোজাদারকে কেউ গালি দিলে সে তাকে উল্টো গালি না দিয়ে যেন বলে আমি রোজাদার।’ অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘যে আমার জন্য মুখ ও লজ্জাস্থানের জামিন হবে আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হব’ (আল হাদিস)।
    রমজানে ইবাদতের পাশাপাশি ইবাদত রক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে মুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অন্যথায় রাসুলের ভাষায় ক্ষুধা ছাড়া রোজা কোনো কাজে আসবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘অনেক রোজাদার এমন রয়েছে ক্ষুধা ছাড়া তাদের রোজায় কোনো প্রাপ্তি নেই’ (আল হাদিস)।
    অনুলিখন : আবদুল্লাহ মুকাররম

     

    Sign in to Reply
    Replying as Submit