মানুষ কেন মারা যায় ?

Please check these topics first.

    Administrator Member Since Oct 2016
    Flag(0)
    Sep 29, 2012 12:09 AM 1 Answers
    Subscribe

    1 Subscribers
    Submit Answer
    Please login to submit answer.

    1 Answers
    Sort By:
    Best Answer
    0
    AnswersBD Administrator Sep 29, 2012 12:19 AM
    Flag(0)

    কত ভালোইনা হতো যদি কখনো বুড়িয়ে না যেতাম, বৃদ্ধ বয়সের একগাদা রোগবালাই কখনো শরীরকে অবসন্ন না করতে পারতো! জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত যদি জীবনটাকে এভাবেই উপভোগ করে যেতে পারতাম! আর যদি বার্ধক্যজনিত মৃত্যু না থাকত তাহলেতো কথাই নেই, আর কি চাই! কখনো কি ভেবে দেখেছেন কেন এই আকাঙ্ক্ষাগুলো সবসময় প্রশ্নই থেকে যায়! দোষ দিয়েছেন কি ভাগ্যকে অথবা সৃষ্টিকর্তাকে? জানেন কি কে সেই কালপ্রিট যার জন্য আমাদের বয়সের সাথে সাথে এই শারীরিক অবক্ষয়? আর কেউ নয়, সে হচ্ছে আপনার আমার শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা DNA (Deoxyribo-Nucleic Acid). ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনের ফলে তৈরি হয় একটি ডিপ্লয়েড কোষ জাইগোট। মাতৃগর্ভের সেই একটি মাত্র কোষ ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে দিনে দিনে গঠন করে মানবদেহ, পরিণত করে একটি বাচ্চা শিশুর শরীরকে পুর্নবয়স্ক মানুষে। এরমানে এই নয় যে যতদিন একজন মানুষ লম্বা হতে থাকে ততদিনই শুধু কোষ বিভাজন ঘটে! প্রতিনিয়িত আমাদের শরীরে কোষের হচ্ছে ক্ষয়, পুরাতন কোষ মরে গিয়ে দরকার পরছে নতুন কোষের, আর তাই কোষ বিভাজন ছাড়া আমরা আমাদের অস্তিত্ব কল্পনাও করতে পারিনা। আর এই কোষ বিভাজনের পূর্বশর্ত হচ্ছে DNA এর প্রতিরূপ সৃষ্টি (DNA Replication)। DNA হচ্ছে একটি জটিল যৌগ যা নিউক্লিয়াছে অবস্থিত ক্রোমোসোমের অভ্যন্তরে অবস্থান করে। DNA চার ধরনের উপাদান দিয়ে গঠিত, উপাদান সমূহ একটি নির্দিষ্ট ক্রমবিন্যাসে অবস্থান করে যাকে বলা হয় জিনসিকোয়েন্স। এই জিনসিকোয়েন্সই হচ্ছে জীবদেহে জন্মগত বৈশিষ্ট্যসমূহের নির্ধারক। DNA এর গঠন অনেকটা প্যাচানো সিঁড়ির ন্যায়, একে ডাবল হেলিক্স বলা হয়। DNA এর প্রতিরূপ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি একটি অর্ধরক্ষনশীল প্রক্রিয়া, অর্থাৎ নবসৃষ্ট DNA এর ডাবল হেলিক্স এর একটি মাতৃডিএনএ এর অপরটি নতুন করে সৃষ্ট। প্রকৃতিতে কোনকিছুই নির্ভুল নয়, DNA এর প্রতিরূপ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটিও কোন নির্ভুল প্রক্রিয়া নয়। সমগ্র ব্যাপারটিকে একটি সহজ ব্যাখ্যার সাহায্যে বোঝানো যায়। ধরুন আপনি আপনার ল্যাব রিপোর্ট এর কাভার পেজটি আপনার কোন বন্ধুর কাছ থেকে ফটোকপি করবেন। আপনি কিন্তু প্রতিবার ফটোকপির জন্য আপনার বন্ধুর কাছ থেকে অরিজিনাল কপিটিই চাইবেন, কেননা প্রতিবার কপি করার সময় অরিজিনাল কপি আর ডুপ্লিকেট কপিটির মধ্যে সামান্য করে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ আপনি যদি কপি করা কপিগুলো থেকে পুনঃপুনঃ কপি করতে থাকেন তাহলে এক পর্যায়ে গিয়ে দেখা যাবে আপনার অরিজিনাল কপি আর ডুপ্লিকেট কপির মধ্যে কোন মিল নেই। ঠিক এই ঘটনাটিই ঘটে থাকে আমাদের দেহে অবস্থিত প্রতিটি কোষ অভ্যন্তরে! এছাড়াও, প্রতিবার কোষ বিভাজনের পূর্বে কোষে অবস্থিত ক্রোমোসোমগুলো তাদের অনুরূপ ক্রোমোসোম তৈরি করে যাতে করে প্রতিটি কোষ মাতৃকোষের অনুরূপ হয়। এপর্যায়ে ক্রোমোসোমে অবস্থিত DNA ডাবল হেলিক্সটি তাদের মধ্যকার বন্ধনটি ভেঙে দুটি একক সূতায় পরিণত হয়। সাথে সাথেই DNA পলিমারেজ নামক একটি এনজাইম নতুন দুটি DNA সূতা তৈরি করতে শুরু করে। অতঃপর পুরনো দুটি DNA সূতার বিপরিতে নতুন দুটি DNA সূতা বিন্যস্ত হয় এবং একটি DNA থেকে দুটি প্রায় অনুরূপ DNA সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে বিন্যাসের সমগ্র প্রক্রিয়াটি ঘটে থাকে RNAএর ক্ষুদ্র একটি টুকরার সাহায্যে। ফলশ্রুতিতে নবসৃষ্ট DNA দ্বয় মাতৃডিএনএ থেকে সামান্য খাটো হয় কেননা এদেরকে ব্যবহত RNAএর জন্য কিছুটা জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। ব্যাপারটি অনেকটা এরকম, একজন পেইন্টার কোন একটি ছবির একটি কর্নারে নিজেকে আঁকার ফলে কর্নারটি আর আঁকতে পারলো না! DNA এর অগ্রভাগের যে অংশটি প্রতিবার কোষ বিভাজনের ফলে বাতিল হয়ে যাচ্ছে তাকে বলা হয় Telomere. Telomere হচ্ছে DNA চেইনের একটি বিশেষ রাসায়নিক কোড (TTAGGG + AATCCC). Telomere অংশটি আছে বলেই প্রতিবার কোষ বিভাজনের ফলে DNA অণুটি ছোট হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আমাদের জীবনধারণের প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ সংরক্ষন করতে পারে। কিন্তু প্রতিবার DNA Replication এর সময় এই Telomereএর দৈর্ঘ্য কমতে থাকে, ফলে নতুন DNA আর পূর্বের DNA এর ন্যায় হয় না, অর্থাৎ ত্রুটিপূর্ন DNA গঠিত হয়। ফলে DNA এর সাথে সাথে কোষের কার্জকারিতা কমতে থাকে, ধীরে ধীরে আমরা বৃদ্ধ্য হই। এবং একপর্যায়ে আমরা মারা যাই! প্রশ্ন হল ‘তাহলে বিজ্ঞানীরা এমন কোন পদ্ধতি অথবা মেডিসিন কেন তৈরি করছে না যাতে করে Telomere পুনরায় লম্বা করে দেয়া যায়?’ তবেইতো আর এসকল ত্রুটিপূর্ন DNA তৈরি হবে না আর আমাদের জীবনসীমাও হবে অসীম! কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ক্যানসার! যখন DNA Replication এ কোন গুরুতর ত্রুটি দেখা যায় তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সে কোষটির বিভাজন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ত্রুটিপুর্ন DNA উৎপাদন বন্ধ হএ যায়। কিন্তু ক্যান্সারকোষসমূহ Telomereকে দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি করতে সক্ষম এনজাইম Telomerase এর উৎপাদন প্রক্রিয়াটি পুনরায় চালু করে ফেলে, ফলে ত্রুটিপূর্ন কোষটি পুনরায় বিভাজিত হতে শুরু করে যার ফলশ্রুতিতে তৈরি হয় টিউমার। যার ভয়াবহ রূপ হচ্ছে ক্যান্সার! যেহেতু মানবদেহে জন্মথেকেই এসকল ক্যান্সার কোষ সুপ্ত অবস্থায় থাকে তাই বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এই Telomerase এনজাইমটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আর তাই বিজ্ঞানীরা Telomere এর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা অপেক্ষা দৈর্ঘ্য কমানোতেই বেশি উৎসাহী! Telomerase এনজাইমটির উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয় হচ্ছে জনন কোষসমূহে যাতে করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোনপ্রকার ত্রুটিযুক্ত DNAএর বাহক না হয়। কাজেই প্রকৃতির নিয়মানুসারে কোষসমুহের ভুলত্রুটির যন্ত্রণায় সময়ের সাথে সাথে আমাদের বুড়িয়ে যেতে হয়, ঢলে পরতে হয় মৃত্যুর কোলে। আর তাই কথায় আছে- “বৃদ্ধ হওয়া বাধ্যতামূলক, কিন্তু বড় হওয়া ঐচ্ছিক।”

    Sign in to Reply
    Replying as Submit