মেডিটেশন কি? এর উপকারিতা কি?

Please check these topics first.

    Administrator Member Since Oct 2016
    Flag(0)
    Sep 19, 2012 02:46 AM 1 Answers
    Subscribe

    1 Subscribers
    Submit Answer
    Please login to submit answer.

    1 Answers
    Sort By:
    Best Answer
    0
    AnswersBD Administrator Sep 19, 2012 04:35 AM
    Flag(0)

    মেডিটেশন কী? মেডিটেশন করলে কী লাভ?

    মেডিটেশন বা ধ্যান মনের এমন এক অবস্থা যখন মন অপ্রয়োজনীয় সবকিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন ধ্যানাবস্থায় ব্রেনে আলফা ওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি থাকে অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৮-১৩ সাইকেল। তারা বলেন এই ফ্রিকোয়েন্সিতেই ব্রেন সবচেয়ে সুন্দরভাবে কাজ করে। আসলে প্রতিভার রহস্য এখানেই। আমরা যাকে প্রতিভা মনে করি, তা অলৌকিক কিছু নয়। প্রতিভা মানে ইচ্ছেমতো তৎক্ষণাৎ মনে ‘ধ্যানাবস্থা’ সৃষ্টি করার ক্ষমতা, সবার অলক্ষ্যে মুহূর্তে তন্ময় ভাবনায় নিমগ্ন হয়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেয়ার সামর্থ্য।

    আসলে ধর্মবেত্তা দার্শনিক দরবেশ ঋষি কবি সাহিত্যিক বিজ্ঞানী সবাই মনের ধ্যানাবস্থার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছেন, বরণীয় হয়েছেন। সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। কারণ মনই সূচনা করেছে চিন্তা বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও সভ্যতার। মনের ধ্যানাবস্থা তথা তন্ময় ভাবনার মধ্যেই আবিষ্কৃত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সত্য। মনোশক্তির সৃজনশীল প্রয়োগে উদ্ভাবিত হয়েছে নতুন প্রযুক্তি। নীরব মুহূর্তেই সৃষ্টি হয়েছে অমর কাব্য, সাহিত্য, সংগীত। আত্মনিমগ্ন অবস্থায়ই মহাপুরুষেরা দুনিয়াকে দিয়েছেন নতুন দর্শন, ধর্ম, জীবনবিধান।

    পৃথিবীর সকল বড় বড় বিপ্লবের সূচনা হয়েছে মৌনতার মাঝে মনের ধ্যানাবস্থায়। দুনিয়ায় মানুষের তৈরি দৃশ্যমান সবকিছুই প্রথম বাস্তবতা লাভ করেছে মনে।

    নের ক্ষমতা বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক স্বীকৃত সত্য। মনের শক্তি দিয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় ক্ষমতা বাড়িয়ে পেতে পারেন রোগ-ব্যাধিমুক্ত সুস্থ, সুন্দর, দীর্ঘ জীবন।

    লেখাপড়ায় সাফল্য : জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ, অখণ্ড মনোযোগ সৃষ্টি ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় লেখাপড়ার মাধ্যমে অল্প সময়ে পড়া তৈরি, পরীক্ষাভীতি দূর ও আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষা দিয়ে অসাধারণ ফল।

    অর্থ-বিত্ত-খ্যাতি-প্রতিপত্তি : ব্রেনের ডান ও বাম বলয়কে সমন্বয় এবং ব্রেনকে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করে পেশাগত সাফল্য, পদোন্নতি, ব্যবসা, অভিনয়, ক্রীড়া ও জনপেশায় জনপ্রিয়তা ও অর্থ-বিত্ত-খ্যাতি-প্রতিপত্তি লাভ।

    সম্পর্ক উন্নয়ন : ব্যক্তিগত, দাম্পত্য, পারিবারিক, পেশাগত ও সামাজিক সম্পর্কের উন্নয়ন, অন্যকে বোঝা ও তার উপকার করার ক্ষমতা।

    বদ-অভ্যাস দূর: ধূমপান অ্যালকোহল ড্রাগ নেশা ও মাদকদ্রব্য বর্জন এবং যেকোনো বদ-অভ্যাস থেকে মুক্তি।

    অতিচেতনা : অতিচেতনা, প্রজ্ঞা অর্থাৎ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, মুক্ত বিশ্বাস ও প্রশান্ত প্রত্যয়।

    ইবাদতে একাগ্রতা : একাগ্রচিত্তে ইবাদত বা প্রার্থনা, দোয়া, জিকির, আরাধনা বা নামজপের মাধ্যমে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ।

    আমি কীভাবে কোয়ান্টাম মেথড শিখতে পারি?

    কোয়ান্টাম মেথড ৪ দিনব্যাপী একটি কোর্স। বাংলাদেশের ঢাকায় প্রতিমাসেই অনুষ্ঠিত হয় এ কোর্স। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, যশোর ও অন্যান্য জেলাশহরেও নিয়মিত বিরতিতে কোর্স হয়। কোর্সের সময়সূচি জানতে পারবেন এখানথেকে। আর কোর্সে অংশ নেয়ার ফরম সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রস্তুতির জন্যে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন এখানে। তবে কোর্সে আসার আগ পর্যন্ত আপনি অংশ নিতে পারেন আমাদের সাপ্তাহিক সাদাকায়ন ও আলোকায়ন প্রোগ্রামে। আর সে পর্যন্তও অপেক্ষা করতে না চাইলে ওয়েবসাইট থেকে মেডিটেশন ডাউনলোড করে এক্ষুণি বসে পড়তে পারেন মেডিটেশনে।

    ধর্মের সাথে কি কোনো বিরোধ আছে?

    কোয়ান্টাম মেথেডর সাথে ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। আমাদের দেশের বহু বিশিষ্ট আলেম এ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তারা সবাই এক বাক্যে বলেছেন যে কোয়ান্টামের কোনো সূত্রের সাথে আমাদের ঈমান-আকিদার কোনো বিরোধ নাই। বরং অধিকাংশই খুব দুঃখ করে বলেছেন যে, আমরা তো বলি হুদরিল ক্বালব ছাড়া নামাজ হয় না। নামাজের জন্যে প্রয়োজন হুদরিল ক্বালব, একাগ্রচিত্ততা। শুধু রুকু-সিজদা দিলে নামাজ হয় না। শুধু সূরা- কেরাত পড়লে নামাজ হয় না। নামাজের জন্যে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একাগ্রচিত্ততা, হুজরে ক্বালব। এই হুজরে ক্বালব কীভাবে সৃষ্টি করতে হয় এখানে এসে শিখে গেলেন। যারা এ কোর্সে অংশ নিয়েছেন, প্রত্যেক আলেম একটি কথা বলেছেন যে তাদের নামাজের একাগ্রচিত্ততা, মনোযোগ আগের চেয়ে বেশি। অতএব যারা ইবাদত-বন্দেগী, উপাসনা-আরাধনায় একাগ্রচিত্ত হতে চান কোয়ান্টাম মেথড তাদেরকে চমৎকারভাবে সাহায্য করবে।

    ৪ দিনে কি কোয়ান্টাম মেথড শেখা সম্ভব?

    অবশ্যই সম্ভব। অসংখ্য মানুষ ইতোমধ্যেই তা সম্ভব করেছেন। সহজ ও কার্যকর প্রশিক্ষণ পদ্ধতির কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার পরেই হয় মেডিটেশন। মেডিটেশন চলাকালে প্রশিক্ষকের ধ্যানশক্তি-তরঙ্গের প্রভাবে অংশগ্রহণকারীরা সহজে মেডিটেটিভ লেভেলে পৌঁছে যান। তৈরি হয় কোয়ান্টাম চেতনা বলয়। জ্ঞান তখন শুধু শব্দ দ্বারা বাহিত হয় না, জ্ঞান ও অনুভব তখন সঞ্চারিত হয় মন থেকে মনে। কোয়ান্টাম কোর্সে মন থেকে মনে অনুভব সঞ্চারণ ও মনের গভীরে নিমগ্ন হওয়ার পরিমাণ এত ব্যাপক যে, প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেরাই বিস্মিত হন।

    Sign in to Reply
    Replying as Submit